প্রচ্ছদ > বিনোদন >

কাওয়ালি থেকে পপ—বিশ্ব মাতাচ্ছে পাকিস্তানের সংগীত

article-img

কোক স্টুডিওর ‘পাসুরি’ কিংবা আরুজ আফতাবের গ্র্যামি জয়—সব মিলিয়ে বিশ্বসংগীতের মঞ্চে এখন জয়জয়কার পাকিস্তানি গানের। গত পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে পাকিস্তানি গানের জনপ্রিয়তা বেড়েছে অকল্পনীয় গতিতে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান বলছে, কাওয়ালি থেকে পপ—পাকিস্তানি গানের প্রায় ৮৯ শতাংশ শ্রোতাই এখন পাকিস্তানের বাইরের।

বিশ্বমঞ্চে ‘পাসুরি’র দাপট

আলী শেঠি ও শায় গিলের ‘পাসুরি’ যখন স্পটিফাই গ্লোবাল ভাইরাল ফিফটির শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিল, তখনই বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানি সংগীতের নতুন জোয়ারের কথা। স্পটিফাইয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে এ প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানি গানের রপ্তানি বেড়েছে অবিশ্বাস্য ৬২০ শতাংশ।

কিংবদন্তিদের উত্তরাধিকার

পাকিস্তানি গানের এ জয়যাত্রা অবশ্য নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকে কিংবদন্তি নুসরাত ফতেহ আলী খান কাজ করেছেন পিটার গ্যাব্রিয়েল কিংবা এডি ভেডারের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে। আশির দশকে নাজিয়া হাসানের ‘ডিসকো দিওয়ানে’ অ্যালবামটি কাঁপিয়েছিল এশিয়াসহ বিশ্বের ১৪টি দেশ। তবে বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এই প্রসারের গতি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আরুজ আফতাবের মতো গ্র্যামিজয়ী শিল্পীরা এখন নিয়মিত বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

পরিসংখ্যানে অবাক করা তথ্য

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি পাঞ্জাবি পপ এবং কাওয়ালির মোট শ্রোতার ৮৯ শতাংশই বিদেশের। এ ছাড়া পাঞ্জাবি হিপ-হপ ও দেশি পপের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৮৮ ও ৮৭ শতাংশ। এমনকি গজল বা ভাংরার মতো ঘরানার গানেরও ৮৪ শতাংশ শ্রোতা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন।

আলী শেঠি ও শায় গিল: নতুন দিনের তারকা

গজলকে আধুনিক ঢঙে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন আলী শেঠি। হার্ভার্ড বা কার্নেগি হলের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে তিনি গাইছেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে পশ্চিমা সুরের মিশেলে। অন্যদিকে, লাহোরের খ্রিস্টান পরিবারের মেয়ে শায় গিল ২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রাম থেকে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ‘পাসুরি’র মাধ্যমেই আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত নাম।

কেন এ আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা?

স্পটিফাইয়ের কর্মকর্তা রুতাবা ইয়াকুব মনে করেন, পাকিস্তানি গানের বৈচিত্র্যই একে বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। জেইন মালিকের সঙ্গে ‘এ ইউ আর’-এর ‘তু হ্যায় কাহাঁ’ কিংবা কোচেলা উৎসবে আলী শেঠির পরিবেশনা—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে পাকিস্তান এখন এক শক্তিশালী নাম।

দক্ষিণ এশিয়ার সুরের জাদু এখন সীমানা পেরিয়ে মানুষের ড্রয়িংরুম থেকে শুরু করে বড় বড় কনসার্ট হল মাতাচ্ছে, যার প্রমাণ মিলছে প্রতিদিনের স্ট্রিমিং চার্টে।